শুধু সংরক্ষণ নয় , বরং সমৃদ্ধিও চাই!

শায়খ আব্দুল্লাহ নাজীব

ইলম -জ্ঞান একটি বর্ধনশীল বিষয়। প্রতিটি বিষয়ের জ্ঞানের আরম্ভটা ছোট্ট পরিসরে হলেও ক্রমে ক্রমে তা সমৃদ্ধ হয়েছে। তার আকার ও পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্ঞানের প্রতিটি শাখার বাস্তবতা একই রকম। ইসলামী জ্ঞানও এর ব্যতিক্রম নয়। কোরআন-হাদিস, ফিকহ-আকিদা যেকোনো শাখাকেই বিচার করেন না কেনো দেখবেন, যুগে যুগে তা সমৃদ্ধ হয়েছে।

আমাদের আকাবির ও সালাফগণ সেই জ্ঞানের বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন। তাঁরা একদিক থেকে যেমন পূর্ববর্তীদের থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এবংউত্তমরুপে নিজেদের মাঝে ধারণ ও সংরক্ষণ করেছেন। তেমনি পাশাপাশি তাঁরা যুগের প্রয়োজনে ইলমকে সমৃদ্ধও করেছেন।

তাঁরা যদি শুধু সংরক্ষণই করতেন, নিজের যুগের চাহিদা মাফিক সমৃদ্ধ ও ক্রমবিকাশ না করতেন, তাহলে আমাদের জন্য বর্তমান যুগে কোরআন- হাদিস বোঝা বড় দুরুহ ব্যাপার হতো। যেমন কোরআন-হাদীসে আকিদার বিবরণ দেওয়া হয়েছে কিছুটা বিক্ষিপ্তাকারে। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ কোরআন ও হাদিস মন্থন করে প্রাথমিক বিন্যাস করার চেষ্টা করেছেন। সালাফের আরো অনেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রেখেছেন। আহলুস সুন্নাহর দুই ইমাম ,ইমাম আবুল হাসান আশআরী এবং ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদী রাহমাতুল্লাহ নিজেদের যুগের চাহিদা অনুযায়ী সালাফদের আকিদার নতুন বিন্যাস করেছেন। অনেক প্রয়োজনীয় বিষয় সমৃদ্ধও করেছেন। সমৃদ্ধির এ ধারা পরবর্তীতেও চলমান ছিলো। মুঈনুদ্দীন নাসাফী, সাইফুদ্দীন আমেদী, ইমাম গাযালী সহ আরো অনেক ইমাম এতে অমর কীর্তি ও অবদান রেখেছেন।

ভেবে দেখুন, ওনাদের অবদান ও সমৃদ্ধি যদি আমাদের সামনে না থাকতো; তাহলে বর্তমান যুগে আকীদা বিষয়ক চাহিদা পূরণ করাটা কতইনা দুরুহ ব্যাপার হতো। এজন্য বলা হয়, “জ্ঞানের সমৃদ্ধি জ্ঞানকে জীবিত রাখে, সহজ ও বোধ্য করে তুলে”। কোন সময় জ্ঞানের সমৃদ্ধি হ্রাস পেলে বা থেমে গেলে সেই জ্ঞানই এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দুর্বল ও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে।

বর্তমানে অনেকাংশেই আমাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু থাকে জ্ঞানার্জন ও সংরক্ষণ। ইলমের হেফাজতটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে যায়, ইল্লা মাশাআল্লাহ।ইলমের সমৃদ্ধির প্রতি আমাদের ঝোঁক ও প্রবণতা অপ্রতুল। অথচ আমাদের আকাবিরে দেওবন্দ শুধু ইলমের হেফাজতই করেননি, বরং ইযাফাও করেছেন। কিন্তু আমরা ইযাফা ও সমৃদ্ধির সেই ধারা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি।

এই কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বর্তমান যুগের চাহিদা এবং আমাদের অর্জিত জ্ঞানের মাঝে বেশ দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। ইলমের ইযাফা ও সমৃদ্ধির কথা চিন্তা না করলে, এই দূরত্ব ও শূন্যতা আরো বেড়েই যাবে। তাই শুধু সংরক্ষণ নয় বরং সমৃদ্ধিও চাই! তবে নিয়মের আওতায় থেকে। অনিয়মিতভাবে নয় ।

 

Facebook

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

উজবেকিস্তান সফরের কারগুজারি

জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার মুহতামিম হযরত মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান (হাফিযাহুল্লাহ), মাওলানা তাহমীদুল মাওলা (হাফিযাহুল্লাহ), মাওলানা তাফহীমুল হক হবিগঞ্জী (হাফিযাহুল্লাহ) প্রমুখ

Read More »