মুকাদ্দিমাতে নুমানী (১ম খণ্ড)

উপমহাদেশের অন্যতম আলেমে দ্বীন, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ নুমানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-র ইলমি ব্যক্তিত্য ও পাণ্ডিত্য, উলূমুল হাদীসে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও অবদান সর্বজন স্বীকৃত। তাজদীদ-সংস্কার ও পূর্ণতা দান, প্রামাণ্যতা ও পরিমার্জন এবং সুদৃঢ় ও সুনিপুণ উপস্থাপনা তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তিনি হাদীস, উলূমুল হাদীস, তাফসীর ও ফিকহ-সহ ইসলামী শাস্ত্রাবলীর জটিল, অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর ইলমী বিষয়ে, আরবী ও উর্দু ভাষায় রচিত ৩৬ টির মত কিতাবের ভূমিকা ও মুখবন্ধ লিখেছেন। এসব ইলমি ও তাহকীকী ভূমিকা মিশকাত, দাওরায়ে হাদীস, এবং তাখাসসুসের ছাত্রদের জন্যে খুবই উপকারী। এমনকি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এগুলো নেসবাভুক্তও হয়েছে। কিন্তু এসব ভূমিকার কোনও তাহকীককৃত সংকলন ছিল না। তাহকীককৃত সংকলনের প্রয়োজন অনেকেই অনুভব করছিলেন। আল হাদুলিল্লাহ, মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ থেকে এসব ভূমিকা ২ খণ্ডে প্রকাশিত হচ্ছে। উর্দু ভাষায় লিখিত ২৪ টি ভূমিকা স্থান পেয়েছে প্রথম খণ্ডে। আরবী ভাষায় লিখিত ১২ টি ভূমিকা থাকবে ২য় খণ্ডে।

লেখকের সাহেবযাদা করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক প্রফেসর, ডক্টর মাওলানা আবদুশ শহীদ নুমানী (হাফিযাহুল্লাহ তাআলা) লিখিত হযরতের জীবনী— “তারীখ, তাদওয়ীন, উসূলে হাদীস আওর হযরত মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী: এক মুখতাসার জায়েযা” এবং হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক সাহেবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি “মুকাদ্দিমাতে নুমানী”র রওনক ও শোভা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা হযরত মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী এর সকল ইলমি ও দীনী খিদমাত কবুল করে নিন, তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন, তার উলূম ও মাআরিফ থেকে ভরপুর ইসতিফাদা করার তাওফীক দান করুন।

 

গ্রন্থটির কিছু বৈশিষ্ট্য:

= মূল ভূমিকার মুদ্রণগত ত্রুটি-বিচ্যুতি যথাসাধ্য ঠিক করার চেষ্টা করা হয়েছে

= গুরুত্বপূর্ণ তালীক-টীকা যুক্ত করা হয়েছে

= মূল উৎসগ্রন্থের সাথে মিলানো হয়েছে

= মূল ও আসল তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে

= কুরআনের আয়াতসমূহের নাম্বার যুক্ত করা হয়েছে

= হাদীসসমূহের তাখরীজ করা হয়েছে

= উপশিরোনাম যুক্ত করা হয়েছে

= আধুনিক আরবী ও উর্দু ভাষা ও বানানরীতি এবং লিপিশৈলি অনুসরণ করা হয়েছে

= সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত সূচিপত্র তৈরি করা হয়েছে

= শিরোনাম রঙিন করা হয়েছে

 

মুকাদ্দিমাতে নুমানী (উর্দু) (مقدمات نعمانی)

লেখক: মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী রহ. (مولانا محمد عبد الرشید نعمانی)

ভূমিকা: মাওলানা আবদুল মালেক হাফি. (مولانا محمد عبد المالک)

তত্ত্বাবধান: মাওলানা তাহমীদুল মাওলা

সংকলন ও টীকা: শিহাব সাকিব

ভাষা: উর্দু

শর্ট পিডিএফ পড়তে এখানে চাপ দিন

পৃষ্ঠা: ৪৮০

মূল্য: ৪৫০

রং: কালো ও লাল

বাঁধাই: বোর্ড বাঁধাই

কাগজ: ক্রিম কালার, অপসেট ৭০ জিএসএম

প্রথম প্রকাশ: রামাদান ১৪৪৫ হিজরী

 

 

 

গ্রন্থটি সম্পর্কে মাওলানা সিরাজুস সালেকীন লিখেছেন (৯ জুন ২০২৪),

কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের সাথে ইলমের সখ্যতা এতটাই হয় যে, তারা ইলমের বাহিরে গিয়ে কিছু বলতে পারেন না। ইলম থেকে আলাদা হয়ে কিছু লিখতে পারেন না। তাদের সামান্য কথাতেও থাকে ইলমের ঝলক। স্বাভাবিক লেখাতেও থাকে কোনো না কোনো ইলমী খোরাক। বিভিন্ন কিতাবের আগে এই ব্যক্তিদের লিখিত ভূমিকাগুলো তাই হয়ে উঠে একেকটা ইলমী উদ্যান, যেখানে ইলম গোলাপের হাসি ছড়ায়। তাহকীক যেখানে হাসনাহেনার সুবাসে চারদিক মোহিত করে তুলে।

এই মুহূর্তে যাহেদ কাউসারী রহ. ও আলী তানতাবী রহ. এর ভূমিকা সংকলন দুটোর কথা মনে পড়ছে, যা হাদীস, ফিকহ, আকিদা, ইলমুল কালাম, ইতিহাস ও সাহিত্যের নানামাত্রিক ইলমী তথ্য ও তত্ত্বে ভরপুর।

সংক্ষিপ্ত ইলম জীবনে যাদের ঋণে মাথা আমার নত হয়ে আছে, যাদের উপকারের ভারে অন্তর সদা কৃতজ্ঞতায় সিক্ত হয়ে থাকে তাদের অন্যতম হলেন আব্দুর রশিদ নো’মানী রহ.। হযরতের الإمام ابن ماجه وكتابه السنن، ابن ماجہ اور علم حدیث، مكانة الإمام أبي حنيفة في الحديث، تبصرے بر مدخل ইত্যাদি কিতাবগুলো শুরু থেকে নিয়ে আজ অবধি দিশা আসছে।

বন্ধুবর মাওলানা শিহাব সাকিব আব্দুর রশিদ নো’মানী রহ. এর উর্দূ ভাষায় লিখিত ভূমিকাগুলোকে এক মলাটে সংকলন করেছেন। উন্নত ছাপা ও নান্দনিক সেটাপে দিতে কোনো ত্রুটি করেননি। সাথে হাশিয়াতে বিভিন্ন ইলমী সংযুক্তি দিয়েছেন যা এই সংকলনের উপকারকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুতে আব্দুল মালেক হা. ও তাহমীদুল মাওলা হা. এর ভূমিকা এবং আব্দুর রশীদ নো’মানী রহ. ইলমী কারনামা নিয়ে লিখিত তার ছেলে আব্দুশ শহীদ নোমানী হা . এর একটি প্রবন্ধ যুক্ত হ‌ওয়ায় সংকলনটির মূল্যকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। الموسسة العلمية بنغلاديش এই মূল্যবান সংকলনকে পাঠকের সামনে আনায় অবশ্য‌ই আহলে ইলমদের আন্তরিক শুকরিয়া পাওয়ার অধিকার রাখে।

এই সংকলনে মোট চব্বিশটি ভূমিকা রয়েছে। সবগুলোতেই ইলমী ফাওয়াইদ রয়েছে। তবে কয়েকটি ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । উদাহরণ স্বরুপ كتاب الآثار، مسند الإمام الأعظم، موطأ محمد এর ভূমিকা তিনটিতে হানাফী মাযহাবের মানহাজ, উসূল, মাসাদির, ইমামদের পরিচয়, গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা নিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও সমাধান দেওয়া হয়েছে যা এর আগের কোনো কিতাবে হয়ত পাওয়া যাবে না। প্রত্যেক সচেতন আলেম ও তালিবে ইলমের জন্য এই ভূমিকা তিনটি পড়া আবশ্যক মনে করি। মারকাযে উলূমুল হাদীস পড়ার সময় আমাদের নেসাবে এগুলো অবশ্য পাঠ্য ছিল। আমাদের মাদানীনগরের উলূমুল হাদীস বিভাগেও এগুলো অবশ্য পাঠ্য ছিলো। এবছর থেকে পুরো সংকলনটাই অবশ্য পাঠ্য করা হয়েছে।

সংকলনের চতুর্থ ভূমিকাটি হলো আব্দুল আযীয দেহলবী রহ. এর عجالہ نافعہ কিতাবের উপর লিখিত ভূমিকা। এই ভূমিকাতে হিন্দুস্থানে উলূমুল হাদীসের চর্চার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এবং আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবী, ওলিউল্লাহ দেহলবী রহ. ও তাদের খান্দানদের হাদীস চর্চার ধরণ ও অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই ভূমিকার অত্যন্ত উপকারী দিক হলো ওলিউল্লাহ দেহলবী রহ. এর নির্ধারিত হাদীস বিষয়ক বিভিন্ন শায উসূলের পর্যালোচনা।

এরপর ভূমিকা হলো মিশকাতে উল্লেখিত আলী রা. এর হাদীস সংকলন مسند حضرت علی এর উপর লিখিত। এই ভূমিকাতে হযরত আলী রা. এর শান ও মান নিয়ে পয়েন্ট পয়েন্ট করে এত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা করা হয়েছে তা হয়ত সংক্ষেপে আরো কোথাও পাওয়া যাবে না। তাছাড়াও আলী রা. এর হাদীস সংখ্যা নিয়েও অনুসন্ধান মূলক চমৎকার কিছু আলোচনা এতে করা হয়েছে।

এরপরের দুটি ভূমিকা হলো তাফসীরে ইবনে কাসীর ও ইবনে হাজার রহ. এর বুলুগুল মারামের উপর লিখিত। এতে ইবনে কাসীর ও ইবনে হাজার রহ. এর জীবনী ও কিতাবাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বুলুগুল মারামের ভূমিকাটি বেশ তথ্যবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ।

পরের ভূমিকাটি গা‌ঙ্গুহী রহ. এর সাবিলুর রশাদ কিতাবের উপর লিখিত। এতে গযাওয়াতুল হিন্দের হাদীসগুলোর তাহকীক করা হয়েছে। তারপর হিন্দে মুসলমানদের বিজয়, উলামা ও সুলাহাদের আগমন, আকবর ও ইংরেজদের ফিতনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এত প্রতিকূল পরিবেশে হানাফী মাযহাবের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম কীভাবে হিন্দুস্থানে টিকেছিলো তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রসঙ্গত হানাফী মাযহাবের হক্কানিয়াতের কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে। অবশেষে দারুল উলুম দেওবন্দের কৃতজ্ঞতা আদায় করা হয়েছে।

পরের ভুমিকাটি হলো تذکرہ علمائے ہند কিতাবের উপর লিখিত। এই ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উলামায়ে হিন্দের জীবনী নিয়ে লিখিত কিতাব সমূহের পরিচিত দান ও نزهة الخواطر এর ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যালোচনা।

এরপরের ভূমিকাটি হলো حالات بزرگان دین কিতাবের উপর লিখিত। এই ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবী ও কাশ্মীরী রহ. ইলমী মাকামের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

এই দশ মুকাদ্দিমাতেই কিতাবের চারশত পৃষ্ঠা শেষ হয়ে গেছে। বাকি চোদ্দটি ভূমিকা সংক্ষিপ্ত হ‌ওয়ায় সংকলনের বাকি ষাট পৃষ্ঠায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

পরিশেষে একটা কথা না বলে পারছি না। কিতাবের আব্দুশ শহীদ নো’মানী হা. প্রবন্ধটিতে আব্দুর রশীদ নো’মানী রহ. তত্ত্বাবধানে লিখিত ৪৮ টি গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বেশিরভাগই উলূমুল হাদীস বিষয়ে লিখিত। কিছু ফিকহি বিষয়ের‌ও আছে। সবগুলো‌ই খালেস ইলমী দিরাসা। এর মধ্যে প্রায় পঁচিশটা হলো হযরতের কাছে উলূমুল হাদীস পড়ুয়া বাংলাদেশী তালিবে ইলমদের লিখিত। এই তালিকা দেখে নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘ শ্বাস বের হয়েছে। হায় আমাদের মেধাবী মানুষগুলো কেন হারিয়ে যায়!

 

 

 

গ্রন্থটি সম্পর্কে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন